তিস্তায় পাহাড়ি ঢলে নিম্নাঞ্চল প্লাবিত, লালমনিরহাটে হাজারো পরিবার পানিবন্দি
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, লালমনিরহাট
প্রকাশ: ২৯ জুন ২০২৬, ০৩:৪৮ পিএম
উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢল ও টানা বৃষ্টিতে আবারও ফুলে-ফেঁপে উঠেছে তিস্তা নদী। এতে লালমনিরহাটের নদীতীরবর্তী নিম্নাঞ্চল ও চরাঞ্চলে দ্রুত পানি প্রবেশ করে বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়েছে। পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন জেলার পাঁচটি উপজেলার হাজারো পরিবার।
পানিতে তলিয়ে গেছে নিম্নাঞ্চলের গ্রামীণ কাঁচা ও পাকা সড়ক। পাশাপাশি বাদাম, সবজিসহ চলতি মৌসুমের বিভিন্ন ফসলের ক্ষেতও পানিতে ডুবে গেছে। এদিকে, বসতবাড়িতে পানি ঢুকে পড়ায় স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হচ্ছে। বিশেষ করে চরাঞ্চলের অনেক পরিবার রান্নাবান্না করতে পারছে না।
পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) জানায়, রোববার (২৮ জুন) রাতে ডালিয়া ব্যারেজ পয়েন্টে তিস্তা নদীর পানি বিপৎসীমার ১১ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হলেও বর্তমানে তা কমেছে। সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, বিকেল ৩টায়, ডালিয়া ব্যারেজ পয়েন্টে নদীর পানি বিপৎসীমার ১৭ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। তবে ব্যারেজ পয়েন্টে পানি কমলেও তিস্তা নদীর ব্যারেজের ভাটিতে থাকা হাতীবান্ধা, কালীগঞ্জ, আদিতমারী ও সদর উপজেলার নদীতীরবর্তী নিম্নাঞ্চলগুলোয় এখনো পানির টান কমেনি, ফলে অববাহিকার নিম্নাঞ্চলে বন্যা পরিস্থিতি অপরিবর্তিত রয়েছে।
জানা যায়, গতকাল রোববার থেকে শুরু হওয়া টানা বৃষ্টি আর উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে হঠাৎ তিস্তার পানি বৃদ্ধি পায়। এতে লালমনিরহাট সদর উপজেলার রাজপুর ও খুনিয়াগাছ; হাতীবান্ধা উপজেলার ডাউয়াবাড়ি ও গড্ডিমারী, কালীগঞ্জ উপজেলার ভোটমারী এবং আদিতমারী উপজেলার মহিষখোচাসহ বেশ কিছু এলাকার নিম্নাঞ্চল ও চরাঞ্চল প্লাবিত হয়।
হাতীবান্ধা উপজেলার গড্ডিমারী চরের বাসিন্দা ফজলুল হক (৪৫) বলেন, রাতের অন্ধকারে হঠাৎ করেই ঘরে পানি ঢুকে গেছে। বিছানার কাছাকাছি পানি আসছে, চুলা ভিজে গেছে। তাই রান্নাবান্না বন্ধ।
আদিতমারী উপজেলার মহিষখোচা এলাকার কৃষক সোলেমান মিয়া (৫২) বলেন, নদীতে পানি আসায় চরের সব বাদাম আর খেতের সবজি পানির নিচে তলিয়া গেছে। এদিকে বাড়িঘরে পানি উঠছে। আমার বাড়ি যাওয়ার সড়কটিও পানিতে তলে গেছে।
এদিকে নদীপাড়ের বাসিন্দারা জানান, প্রতিবছর বর্ষা মৌসুমে কয়েক দফায় বন্যা ও ভাঙনের মুখে পড়তে হয় তাদের। স্থানীয়দের দাবি, নদী খনন ও স্থায়ী সমাধান ছাড়া এই দুর্ভোগ থেকে মুক্তির কোনো উপায় নেই।
লালমনিরহাট পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী শুনীল কুমার রায় জানান, উজানের ভারী বৃষ্টিপাতের কারণেই নদীর পানি এভাবে ওঠানামা করছে। ভাঙন রোধে জরুরি ভিত্তিতে ঝুঁকিপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে জিও ব্যাগ ফেলা হচ্ছে এবং বন্যা পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।
লালমনিরহাটের জেলা প্রশাসক মুহ. রাশেদুল হক প্রধান বলেন, পানিবন্দি ও ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর তালিকা তৈরি করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্তদের মাঝে দ্রুত জরুরি সরকারি সহায়তা ও ত্রাণ পৌঁছে দেওয়ার সব ধরনের প্রস্তুতি রয়েছে। এছাড়া, দূর্গতদের জন্য ২২০ মেট্রিক টন চাল ও পাচ লক্ষ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।
/এএন