লালমনিরহাটে শিশু হত্যা
অভিযুক্তের বাড়ি ভাঙচুর-আগুন; পুলিশ-সাংবাদিকসহ আহত অন্তত ৩০
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, লালমনিরহাট
প্রকাশ: ১৬ জুন ২০২৬, ০৪:০৪ পিএম
লালমনিরহাটের আদিতমারীতে নিখোঁজের একদিন পর ৭ বছর বয়সী শিশু নন্দিনী রায়ের বস্তাবন্দী মরদেহ উদ্ধারকে কেন্দ্র করে অভিযুক্তের বাড়িতে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় উত্তেজিত জনতার হামলায় পুলিশ, সাংবাদিক ও স্থানীয় বাসিন্দাসহ অন্তত ৩০ জন আহত হয়েছেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আদিতমারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি)কে প্রত্যাহার করা হয়েছে।
এর আগে, গতকাল সোমবার (১৫ জুন) বিকেলে উপজেলার ফলিমারী গ্রামের ধরণীকান্ত বর্মনের ৭ বছর বয়সী মেয়ে নন্দিনী রায় নিখোঁজ হয়। স্বজনদের অভিযোগ, নিখোঁজের পর থানায় গেলেও পুলিশ তাদের অভিযোগ নেওয়া হয়নি। মঙ্গলবার সকালে বাড়ির পাশের একটি ভুট্টাক্ষেত থেকে তার বস্তাবন্দী মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ৬টার দিকে প্রতিবেশী রঞ্জিত রায়ের ছেলে বিধান চন্দ্র রায়কে কোদাল হাতে ভুট্টাক্ষেত থেকে বের হতে দেখেন নিহত শিশুর কাকা। সন্দেহ হলে স্থানীয়দের নিয়ে তল্লাশি চালিয়ে মাটির নিচে লুকিয়ে রাখা বস্তাবন্দী মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরে ঘটনাটি জানাজানি হলে পুলিশের সহায়তায় অভিযুক্ত বিধান চন্দ্র রায়কে আটক করে ক্ষুব্ধ জনতা। স্থানীয়দের দাবি, শিশুটিকে ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়েছে।
ঘটনার পর শত শত মানুষ এলাকায় জড়ো হয়ে পুলিশের কাছ থেকে আটক ব্যক্তিকে ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে অতিরিক্ত পুলিশ, বিজিবি ও আনসার সদস্য মোতায়েন করা হয়। একপর্যায়ে উত্তেজিত জনতার হামলা ও ইটপাটকেলে পুলিশসহ অন্তত ৩০ জন আহত হন। ফেরার পথে জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারের গাড়িও ভাঙচুর করা হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
পরবর্তীতে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও বিএনপি নেতাকর্মীরা সাধারণ মানুষকে শান্ত করার চেষ্টা করেন। বিক্ষুব্ধ জনতার দাবির মুখে আদিতমারী থানার ওসিকে তাৎক্ষণিকভাবে প্রত্যাহার করা হয়।
এদিকে, জেলা পরিষদ প্রশাসকের দাবি স্থানীয় বাসিন্দাদের পরিস্থিতি খারাপ করতে তৃতীয় পক্ষ সুযোগ নিয়েছে। এছাড়া, অভিযুক্তের শাস্তি নিশ্চিতে আইন অনুযায়ী পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে জানায় জেলা পুলিশ। পাশাপাশি, সরকারি কাজে বাধা, হামলা, গাড়ি ভাংচুরের ঘটনায়ও মামলা হবে বলে জানায় তারা।
ওসি প্রত্যাহার এবং প্রশাসনের শীর্ষ কর্মকর্তাদের আশ্বাসের পর পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়েছে। তবে এলাকাবাসীর দাবি, আইনি জটিলতা এড়িয়ে দ্রুততম সময়ে এই নির্মম হত্যাকাণ্ডের দৃষ্টান্তমূলক বিচার নিশ্চিত করতে হবে।
/এএন