×
Logo

সারাদেশ

আগামীকাল থেকে বাজারে আসছে হাঁড়িভাঙ্গা

রংপুর ব্যুরো

প্রকাশ: ১৪ জুন ২০২৬, ০৭:২৮ পিএম

আগামীকাল থেকে বাজারে আসছে হাঁড়িভাঙ্গা

আগামীকাল থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে বাজারে আসছে রংপুরের ঐতিহ্যবাহী হাঁড়িভাঙ্গা আম। তবে মৌসুমের শুরুতেই উদ্বেগে রয়েছেন চাষি ও ব্যবসায়ীরা। একদিকে, শিলাবৃষ্টি ও বৈরী আবহাওয়ার কারণে ফলন কমেছে। অন্যদিকে, হাঁড়িভাঙ্গা আমের প্রধান বেচাকেনার কেন্দ্র পদাগঞ্জ হাট সামান্য বৃষ্টিতেই কাদাময় হয়ে পড়ায় সৃষ্টি হয়েছে চরম দুর্ভোগ। ফলে জিআই পণ্যের স্বীকৃতি পেলেও ন্যায্য দাম পাওয়া নিয়ে শঙ্কা কাটছে না সংশ্লিষ্টদের।

মিঠাপুকুর উপজেলার পদাগঞ্জ হাটের প্রবেশমুখ থেকে শুরু করে আশপাশের সড়কগুলো বৃষ্টির পানিতে কর্দমাক্ত হয়ে পড়ে। ড্রেনেজ ব্যবস্থা না থাকায় সামান্য বৃষ্টিতেই হাটজুড়ে সৃষ্টি হয় হাঁটুসমান কাদা।

স্থানীয়দের অভিযোগ, হাটের মাঠ ছাড়িয়ে প্রায় দেড় কিলোমিটার সড়কজুড়ে আমের বেচাকেনা হলেও সেখানে নেই পর্যাপ্ত অবকাঠামো। অথচ এ বছর কৃষি বিভাগ এই হাট থেকে প্রায় ৩শ' কোটি টাকার হাঁড়িভাঙ্গা আম বেচাকেনার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে।

ঢাকা থেকে আসা পাইকারি ব্যবসায়ী মোহাম্মদ আবু হাসান বলেন, এই হাট থেকে শত শত কোটি টাকার আম বিক্রি হয়। আমরা নিয়মিত টোল দিচ্ছি, অনেক সময় দ্বিগুণ-তিনগুণও দিতে হচ্ছে। কিন্তু হাটের উন্নয়নে কোনো উদ্যোগ দেখা যায় না।

চাষি আমিনুল ইসলাম বলেন, সামান্য বৃষ্টি হলেই আম হাটে আনা কঠিন হয়ে যায়। প্রতিবছর ড্রেনেজ ব্যবস্থার দাবি জানাই, কিন্তু কোনো কাজ হয় না।

আরেক চাষি ছামিউল ইসলাম বলেন, প্রতিবছর প্রশাসনের বিভিন্ন কর্মকর্তা আশ্বাস দেন, কিন্তু বাস্তবে কোনো উন্নয়ন হয় না। সমস্যাগুলো আগের মতোই থেকে যায়।

সরেজমিনে দেখা গেছে, আম মৌসুমে হাটে ব্যাপক টোল আদায় করা হচ্ছে। চাষি ও ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, বিপুল রাজস্ব আদায় হলেও সেই অর্থের প্রতিফলন হাটের উন্নয়নে দেখা যায় না।

এবার ৫৬ লাখ টাকায় হাটটির ইজারা নিয়েছেন ১৬ জনের একটি অংশীদার গ্রুপ। তাদের একজন মানিক মিয়া বলেন, রাস্তার দুই পাশে ড্রেন ও হাটে ইট-রাবিশ ফেলার জন্য আমরা চেয়ারম্যান ও ইউএনওর কাছে লিখিত আবেদন করেছি। কিন্তু এখনো কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।

এবার মৌসুমের শুরুতেই শিলাবৃষ্টি ও বৈরী আবহাওয়ায় প্রায় ৩০ থেকে ৩৫ শতাংশ আম ঝরে গেছে বলে জানিয়েছেন কৃষকরা। এছাড়া বৃষ্টির কারণে আমে কালো দাগ পড়া, রং নষ্ট হওয়া এবং ফেটে যাওয়ার ঘটনাও ঘটেছে।

এ বিষয়ে মিঠাপুকুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. পারভেজ বলেন, হাটের উন্নয়নের দায়িত্ব মূলত সংশ্লিষ্ট চেয়ারম্যানের। দ্রুত সংস্কার ও প্রয়োজনীয় অবকাঠামো নির্মাণ জরুরি।

অন্যদিকে, রংপুর অঞ্চলের কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত পরিচালক সিরাজুল ইসলাম বলেন, শিলাবৃষ্টিতে কিছু আম ঝরে গেলেও সামগ্রিকভাবে ফলন ভালো হয়েছে। আমের আকারও বড়। এ বছর ৩শ' কোটি টাকার বেশি হাঁড়িভাঙ্গা আম বেচাকেনা হবে বলে আশা করছি।

এ বিষয়ে রংপুরের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ রুহুল আমিন বলেন, কাল সোমবার (১৫ জুন) দুপুর ১২টায় আনুষ্ঠানিকভাবে হাঁড়িভাঙ্গা আমের বাজারজাত কার্যক্রম উদ্বোধন করা হবে। ফলন কিছুটা কম হওয়ায় কৃষকরা ভালো দাম পাবেন বলে আশা করছি। অবকাঠামো, ব্যাংকিং সুবিধা, সড়ক ও নিরাপত্তাসহ বিভিন্ন সমস্যা আমাদের নজরে এসেছে। এগুলোর সমাধানে কাজ চলছে। পাশাপাশি রফতানির ক্ষেত্রেও প্রতিবন্ধকতা দূর করার চেষ্টা করা হচ্ছে।

/এওয়াইএ/এআই 

Logo