ক্রিকেটার নাঈমকে হেনস্তা
পুলিশের ২ সদস্য সাময়িক বরখাস্ত, বিভাগীয় মামলা প্রক্রিয়াধীন
অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: ১৩ জুন ২০২৬, ০১:২১ পিএম
বাংলাদেশ জাতীয় দলের ক্রিকেটার নাঈম হাসানকে হেনস্তার ঘটনায় প্রাথমিক তদন্তে দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে অপেশাদার আচরণের অভিযোগ পাওয়ায় ২ পুলিশ সদস্যকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। একই সঙ্গে তাদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
শনিবার (১৩ জুন) চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, ১৩ জুন রাত ১ টার দিকে ঢাকা থেকে নিজ বাসায় ফেরার পথে খুলশী থানাধীন লালখান বাজার এলাকায় খুলশী থানা পুলিশের রাত্রীকালীন মোবাইল-৩৩ টিমের সঙ্গে জাতীয় দলের এই ক্রিকেটারের একটি অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটে।
ঘটনার পর প্রাথমিক তদন্তে দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট পুলিশ সদস্যদের বিরুদ্ধে অপেশাদার আচরণের অভিযোগ পাওয়া যায়। এর প্রেক্ষিতে তাৎক্ষণিক প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও জানানো হয়, এ ঘটনায় জড়িত খুলশী থানার এসআই (নিরস্ত্র) মো. শফিকুল ইসলাম ভূইয়া এবং কনস্টেবল মো. রাসেল চৌধুরীকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। পাশাপাশি তাদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলার কার্যক্রম শুরু হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
এর আগে নাঈম অভিযোগ করে জানান, ঢাকায় প্রিমিয়ার লিগের খেলা শেষ করে শুক্রবার রাত ৯টা ৪০ মিনিটে ফ্লাইটে চট্টগ্রাম আসার কথা ছিলো কিন্তু পেছানোর কারণে ১০ টা ২০ মিনিটের ফ্লাইটে ১১ টার পর চট্টগ্রামে পৌঁছায় তিনি। ওখানে কোন গাড়ি না পাওয়ায় সিএনজিতে করে বাসার উদ্দেশে রওনা দেন তিনি।
তিনি বলেন, সিএনজিতে করে আসার পথে একজন ট্রাফিক পুলিশ আমাদের সাথে সিএনজিতে ওঠে। এরপর লালখান বাজারে নামার পর শফিকুল ইসলাম নামের পুলিশ আমাদের গাড়ি সাইড করে নামতে বলে। আমরা নেমে যাই, ভাবছি কাগজপত্র চেক করবে। কিন্তু নামার পর উনি গলায় ধাক্কা দিয়ে গাড়িতে ওঠানোর চেষ্টা করে, আমরা ভয় পেয়ে গেছি।
তিনি আরও বলেন, ওই পুলিশ আমাকে 'তুই আসামি, চুপ, একটা কথাও বলবি না' বলেছে। এরপর আমার গলা চেপে ধরে, আমি চিল্লাচিল্লি করে আব্বুকে কল দিচ্ছি তখন আমার মোবাইল নিয়ে নিলো। প্রায় ১০০ মানুষ জড়ো হয়ে আমার ক্রিকেটার পরিচয় দিলেও আমাকে লাঠি দিয়ে মারছে। আমাকে গলা চেপে ধরে থানায় নিয়ে আসে এসআই শফিকুল। থানায় আমি ওসিকে পরিচয় দিলে উনি আমাকে চোখ নামিয়ে কথা বলতে বলে। এরপর উনার কাছে ফোন আসা শুরু হলে তখন ওসি শান্ত হন বলে জানান তিনি।
/এএন