×
Logo

সারাদেশ

দখল-দূষণে বিপন্ন কর্ণফুলী, কমছে নাব্যতা বাড়ছে ঝুঁকি

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ২৩ এপ্রিল ২০২৬, ০৩:০৫ পিএম

দখল ও দূষণের চাপে দিনদিন সংকুচিত হয়ে পড়ছে দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কর্ণফুলী নদী। দুই তীরে অবৈধ স্থাপনার ছড়াছড়ি, তলদেশ ভরাট হয়ে জেগে ওঠা ডুবোচর এবং দূষণের মারাত্মক প্রভাব সব মিলিয়ে নদীটির অস্তিত্ব এখন সংকটাপন্ন। 

সরেজমিনে দেখা যায়, নির্বিচারে দখলের ফলে অসংখ্য অবৈধ স্থাপনা গড়ে উঠেছে। জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণায় উঠে এসেছে, গত কয়েক বছরে কর্ণফুলীর পানি ধারণক্ষমতা কমেছে প্রায় ২০ শতাংশ। মোহনা থেকে প্রায় ১৯ কিলোমিটার পর্যন্ত এলাকায় নদীর তীর ঘেঁষে গড়ে উঠেছে ২ হাজার ১৮১টি অবৈধ স্থাপনা, যা নদীর প্রাকৃতিক প্রবাহ ও বাস্তুসংস্থানের জন্য বড় হুমকি।

চট্টগ্রামের প্রাণপ্রবাহ হিসেবে পরিচিত এই নদী দেশের অর্থনীতিরও গুরুত্বপূর্ণ অংশ। তবে নাব্যতা রক্ষার নামে কয়েক দফা ড্রেজিং করা হলেও তা কার্যকর হয়নি। নদীর তলদেশ ভরাট হয়ে ইতোমধ্যে সৃষ্টি হয়েছে অন্তত ২২টি নতুন ডুবোচর। ফলে নদীর স্বাভাবিক গভীরতা কমে ২ থেকে ৫ মিটারে নেমে এসেছে, যা বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

অন্যদিকে, চট্টগ্রাম মহানগরীর গৃহস্থালি বর্জ্য, পয়ঃনিষ্কাশনের পানি এবং বিভিন্ন খালের মাধ্যমে আসা ময়লা সরাসরি নদীতে গিয়ে পড়ছে। এর সঙ্গে যোগ হয়েছে নদীর দুই তীরে অবস্থিত শত শত শিল্পকারখানার দূষিত বর্জ্য ও জাহাজের পোড়া তেল, যা কর্ণফুলীর দূষণ পরিস্থিতিকে আরও ভয়াবহ করে তুলছে। সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর কার্যকর উদ্যোগের অভাব পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।

এ বিষয়ে কর্ণফুলী নদী গবেষক ড. ইদ্রিস আলী বলেন, নদীর সুস্থতার জন্য প্রয়োজন সঠিক পরিকল্পনা ও দক্ষ ব্যবস্থাপনা, যা এখনো নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি।

নগর পরিকল্পনাবিদ আশিক ইমরান মনে করেন, কর্ণফুলীকে রক্ষায় জরুরি রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত প্রয়োজন। তিনি বলেন, নদীকে দখল ও দূষণমুক্ত করতে হলে অবৈধ স্থাপনাগুলো দ্রুত উচ্ছেদ করতে হবে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে চট্টগ্রামের জীবনরেখা খ্যাত কর্ণফুলী নদী তার স্বাভাবিক রূপ হারিয়ে ফেলতে পারে, যার প্রভাব পড়বে পরিবেশ, জীববৈচিত্র্য ও দেশের অর্থনীতির ওপর।

/এওয়াইএ/এসআর 

Logo