এক যুগে যমুনা টেলিভিশন: উৎসবের আমেজে দেশজুড়ে যুগপূর্তি উদযাপন
অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: ০৫ এপ্রিল ২০২৬, ০৫:২৬ পিএম
যমুনা টেলিভিশন—সাহসী সাংবাদিকতা আর গণমানুষের আস্থার ১২টি বছর পেরিয়ে পা রাখলো এক যুগে। এক যুগের এই পথচলাকে স্মরণীয় করে রাখতে দেশজুড়ে মেতে উঠেছে উৎসবের আমেজে।
রোববার (৫ এপ্রিল) আনন্দ আয়োজন, স্মৃতিচারণ আর আগামীর দৃপ্ত শপথের মধ্য দিয়ে দেশের বিভিন্ন প্রান্তের অফিস ও জেলা শহরগুলোতে উদযাপিত হয়েছে যমুনা টেলিভিশনের ১২ বছর পূর্তি অনুষ্ঠান। সিলেটের পুণ্যভূমি থেকে শুরু করে খুলনার উপকূলীয় জনপদ সর্বত্রই যেন ছিল যমুনার জন্য শুভকামনার বৃষ্টি।
সিলেট ব্যুরো অফিসে আয়োজিত আনন্দ উৎসবে জড়ো হয়েছিলেন সিলেটের বিভিন্ন স্তরের মানুষ। অনুষ্ঠানে আসা অতিথিরা একবাক্যে স্বীকার করেন যে গত ১২ বছরে ধরে যমুনা টেলিভিশন সাধারণ মানুষের কণ্ঠস্বর হয়ে উঠতে পেরেছে।
সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী ও সিলেট জেলা পরিষদের প্রশাসক আবুল কাহের শামীমসহ বিশিষ্টজনরা আশা প্রকাশ করেন, দেশের উন্নয়ন অগ্রযাত্রায় যমুনা টেলিভিশন ভবিষ্যতেও তার সাহসী ও বলিষ্ঠ ভূমিকা অব্যাহত রাখবে।
একই চিত্র দেখা গেছে ময়মনসিংহেও। সেখানে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা আর সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের ঝঙ্কারে উদযাপিত হয়েছে এই মাহেন্দ্রক্ষণ। সিটি প্রশাসক রুকুনোজ্জামান রোকনসহ স্থানীয় প্রশাসনের পদস্থ কর্মকর্তারা এই আয়োজনে অংশ নিয়ে যমুনা টিভির বস্তুনিষ্ঠতার প্রশংসা করেন।
উৎসবের এই দিনে কেবল আলোচনা নয়, ছিল আবেগঘন মুহূর্তও। কুমিল্লা ব্যুরো কার্যালয়ে যমুনা টেলিভিশনের স্বপ্নদ্রষ্টা প্রয়াত নুরুল ইসলামের আত্মার মাগফেরাত কামনায় আয়োজন করা হয় দোয়া ও আলোচনা সভার। ফরিদপুরেও গণমাধ্যমকর্মীরা শোভাযাত্রা শেষে এক স্মৃতিচারণ সভায় মিলিত হন, যেখানে উঠে আসে যমুনার ভয়হীন সাংবাদিকতার গল্প।
খুলনায় সকাল থেকেই শুভেচ্ছা জানাতে ব্যুরো অফিসে ভিড় করেন নানা শ্রেণি-পেশার মানুষ। সিটি প্রশাসক নজরুল ইসলাম মঞ্জু ও জেলা পরিষদ প্রশাসক মনিরুল হাসান বাপ্পীর উপস্থিতিতে সেখানে কেক কেটে উৎসবের সূচনা করা হয়।
বরিশাল থেকে চট্টগ্রাম—যমুনা টেলিভিশনের যুগপূর্তির আনন্দ ছুঁয়ে গেছে দেশের প্রতিটি প্রান্ত। বরিশালে সিটি প্রশাসক বিলকিস আক্তার জাহান শিরীনের উপস্থিতিতে সাহসিকতার ১২ বছর উদযাপিত হয়।
অন্যদিকে, চট্টগ্রামে যমুনা সেন্টার পরিণত হয় এক মিলনমেলায় , যেখানে দিনভর সর্বস্তরের মানুষের উপচে পড়া ভিড় আর ভালোবাসা যমুনা পরিবারকে করেছে সিক্ত। গণমানুষের এই আস্থাকে সঙ্গী করেই সত্যের পথে তেরো বছরে পা রাখলো যমুনা টেলিভিশন।
যমুনার এই আনন্দের রঙ ছড়িয়ে পড়েছিল কোমলমতি শিশুদের মাঝেও। নাটোরে স্বপ্নকলি স্কুলের শিশু শিক্ষার্থীদের নাচে-গানে মুখরিত ছিল প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর অনুষ্ঠান।
গোপালগঞ্জের সোনালী স্বপ্ন একাডেমির শিক্ষার্থীরাও মেতে ওঠে যমুনার আনন্দ উৎসবে। অন্যদিকে, সিরাজগঞ্জ ও মেহেরপুরের সরকারি শিশু পরিবারের এতিম শিশুদের নিয়ে কেক কাটার আয়োজন ছিল চোখে পড়ার মতো।
সিরাজগঞ্জের জেলা প্রশাসক আমিনুল ইসলাম মনে করেন, সব ভয়ভীতি উপেক্ষা করে যমুনা টেলিভিশন সবসময় সত্যের পথে থেকেছে বলেই আজ তা দর্শকদের হৃদয়ে বিশেষ স্থান করে নিয়েছে।
সবশেষে, যমুনা টিভির এই এক যুগের জয়গান কেবল সংবাদের ভেতরেই সীমাবদ্ধ থাকেনি, তা ছড়িয়ে পড়েছে মানুষের হৃদয়ে। শিশুদের মায়াবি হাসি আর সাধারণ মানুষের গভীর আস্থার প্রতিফলনই ছিল এই দেশব্যাপী আয়োজনের মূল সুর। সত্যের পথে অবিচল থেকে যমুনা টেলিভিশন আগামী দিনেও এভাবেই মানুষের ভালোবাসা সঙ্গী করে এগিয়ে যাবে যুগপূর্তির এই শুভলগ্নে সবার কণ্ঠে ধ্বনিত হয়েছে সেই একই প্রার্থনা। মেঠোপথ থেকে রাজপথ, সত্যের সন্ধানে যমুনার এই যাত্রা হোক আরও মসৃণ ও উজ্জ্বল। শিশুদের হাসিমুখ আর বিশিষ্টজনদের আস্থাই যমুনা টিভির এই এক যুগের পথচলার সবচেয়ে বড় সার্থকতা।
/এএ